বুধবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

আমার দুর্ভাগ্যময় জীবনে তখন একটা অন্ধকার চলছে।তখন আমি একা।কেউ খোজখবর ও নেওয়ার নাই।কে ই বা কবে নিত?? কি আর করার? জীবন চলছে চলুক।


এস.এস.সি পরীক্ষা চলছে।সে আমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালো।সে মন থেকে শুভেচ্ছা দেয় নাই।সে দিছে লোক দেখানোর জন্য । কিছুদিন পরে তার জন্মদিন।আমিও শুভেচ্ছা জানালাম।সে কোনো জবাব দিল না।বলতে গেলে সরাসরি ইগনোর ।তার তখন অনেক ছেলে-মেয়ে বন্দু।তখন আমি আর কে? সবাই ই তো ইগনোর করে।তাই তার ইগনোর ও আমার কোনো মাথা ব্যথার বিষয় না।


কলেজে উঠলাম।সমস্যা থাকুক যতই মুখে আমি হাসি রাখতে পারি সবসময়।সে আর আমি তখনো অনেক দূরে।


অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম কিছুদিন।কেউ তো খোজ খবর ও নিলো না।কবে ই বা নিতো? তাতে কি ? জীবন চলছে চলুক।শীতকালের প্রায় শুরু।
আমি সামনে নকল হাসি ধরে রাখি আর সে পেছনে দাঁড়িয়ে হাসে।
গণিত পরীক্ষার আগের দিনের রাত।আমরা ফেইলের জন্য প্রস্তুত।আমার কাধের উপর তাহার হাত দেখা যায়।আমরা এখন কিছুটা পরিচিত।
সে কই?
আমি কই?
অবশেষে তার সাথে ছবিতে জায়গা পেলাম।কলজে নবীনবরণ কনসার্ট চলছে।আমি কিন্তু একা ই আছি।

তার ২ পাশে তার বেস্টফ্রেন্ড।আমি কেউ ই না।

সে স্যারের বাসায় না আসার কারণ নিয়া পোষ্ট ট্যাগ করল।আমিও সরাসরি ভাষায় জানাইয়া দিলাম আইস না।এখন ব্যাপার সম্পূর্ণ ই আলাদা।


অত্যন্ত আনন্দময় একটা দিন।কিন্তু দিনশেষে আমি একা বাসার পথে হাটি।

চলছে রাতের গোল বৈঠক।সাথে আছে নকল হাসি

ঢাকায় একা যাই প্রায়ই। এইবার বন্দুদের সাথে গেলাম।কিন্তু ফেরার পথে আমি একলা একটা সিটে।পাশে কেউ নাই।


গোলামের বাসায় সবাই।

সব সুপারম্যানের মাঝে এক ব্যর্থ ব্যক্তি সামনে দাড়িয়ে।পেছনে নায়কের মতো একজন আছে।

এরপর অনেক ঘটনা।এক প্রতিবন্ধী সবার বাসায় সমস্যা তৈরি করা শুরু করলো।আমার বন্দু ভালোমতোই যুদ্ধ সামাল দিলো।

প্রতিমাসে প্রায় ৬-৭ দিন অসুস্থতার কারণে বিছানায় পড়ে থাকতাম।এক বন্দু হঠাৎ চাপাচাপি শুরু করল “এইবার কিন্তু তুই অপারেশন করাবি”। আমিও বললাম দেখি।পরীক্ষা শুরু হলো।পরীক্ষা দিতাম ।দেওয়ার সময় জানালা দিয়া দেখতাম সেই বন্দু আমার জন্য দাড়িয়ে আছে।তখনো বুঝতাম না অথবা চিনতে পারি নি। সময় যত যায় ততই বুঝতে পারি সে অন্য বন্দুদের চেয়ে আলাদা।

পরীক্ষা শেষ হলো।ঢাকায় গেলাম ।অপারেশনের তারিখ ঠিক হলো। ১ দিনের ভেতর টাকা জোগাড় করা টা সমস্যা।কিন্তু তারপরেও টাকা জোগাড় হলো।সব বন্দুদের কাছ থেকে বিদায় নিলাম।সেই বন্দুর কাছ থেকেও বিদায় নিলাম।

অপারেশন শেষ হলো।প্রচন্ড যন্ত্রনা। ঘুম আসে না।তখন প্রচন্ড যন্ত্রনায় ও আমার মাথায় কেউ হাত রাখে নি।এখন সামান্য মন খারাপ থাকলেও মন ভালো করানোর চেষ্টা করে। থাক সেই কথা। অপারেশনের ২ দিন পরেই ট্রেনে করে বাসায় ফেরত আসলাম।গোলামের ক্ষমতা কম কিন্তু গোলাম দুর্বল না।


বাসায় আসার কিছুদিন পর তানভীরের মাধ্যমে সবাই জানতে পারল আমি এখন বাসায়।সবাই দেখতে আসল।ঐদিন তারে কিছুটা ভালোমতো চিনতে পারলাম।

এই গরীবের বাসায় সহজে কেউ আসে না।কিন্তু সেই বন্দু বৃষ্টি তে ভিজে আমার বাসায় আসলো ।এটাই আমার সবচেয়ে খুশির ব্যাপার।ভালো খাবার দিতে পারি নি।


এখন অনেকটা সুস্থ। রোজার মাস চলে ।একটা ইফতার পার্টির জন্য অনেক চেষ্টা করলাম।বিভিন্ন মানুষের কাছে কথা শুনলাম ।কিন্তু অবশেষে করতে পারলাম।


ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি।এখন আমি একা না।

ঈদের দিন।অন্যবার ঈদের দিন কেউ মনে ই রাখে না।ভাগ্য ভালো এইবার কেউ একজন ছিলো।আমার জীবনের সেরা ঈদ।কারণ এইবার আমার একজন বেস্টফ্রেন্ড আছে।

ঈদের পরের দিন রাত।বন্দুর টাকায় কক্সবাজার যাই।অনেকটা ই লজ্জিত।
বন্দু আমাকে খাওয়ায় ।আমি পারি না।

বন্দু আমার অসুস্থ

 

সেই বন্দুর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ ।অবশেষে সত্যি কথা বলিয়া ই দিলাম।সেই উপলক্ষে বন্দুর পকেট হতে কিছু টাকা নষ্ট করলাম।

বন্দু বিয়ে খেতে গেলো।যার কারণে আমার মন খারাপ। কিন্তু ১৫০ টা সারপ্রাইজ এর মাধ্যমে মন ভালো করলো বন্দু।আমার পাওয়া সবচেয়ে সেরা সারপ্রাইজ।


আবারো  বন্দুর পকেটের টাকা নষ্ট করলাম।

ঈদের আগের দিন আবারও একই কান্ড।
ঈদের দিন বন্দু সারাদিন ব্যস্ত।

ঈদের পরের দিন আবার ঘুরাঘুরি।

জীবন চলছে।এখন আমি আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি।এখন আর নকল হাসি দিতে হয় না।আসল হাসি দিতে পারি মাঝে মাঝে।এমন একজন বন্দু থাকলে আর কিছু দরকার হয় না।এত কথার পর মূল কথা এটাই অপছন্দের মানুষটা ই এখন ভাই।